
ঢাকা, প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ জারি করেছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিমান ভাড়া নির্ধারণ, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সরাসরি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকার এখন থেকে বিমানের টিকিটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবে। কোনো এয়ারলাইন্স নির্ধারিত সীমার বাইরে ভাড়া আদায় করলে তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত কিংবা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এ ছাড়া যাত্রী স্বার্থ রক্ষায় একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হবে, যা নিয়মিতভাবে টিকিটের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। অনলাইন টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকেও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে।
গত কয়েক বছরে বিশেষ করে ঈদ, হজ ও পিক সিজনে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াগামী ফ্লাইটে টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এতে প্রবাসী কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সরকারের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও সিন্ডিকেট ভাঙতেই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “এই অধ্যাদেশ কোনো ব্যবসা-বিরোধী নয়। বরং যাত্রীদের অধিকার রক্ষা এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।”
তবে কয়েকটি এয়ারলাইন্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ফলে বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ব্যাহত হতে পারে। তবে সরকার বলছে, প্রয়োজন অনুযায়ী অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই বাস্তবায়ন করা হবে।













