
নিউজ ডেস্ক: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে- এমনটা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে জনমত জরিপের কাজও শুরু করেছে দলটি। এসব জরিপে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের মনোনয়ন পাওয়া অধিকাংশ প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ধরে রাখার চিত্র উঠে এসেছে। তবে এ সত্ত্বেও অন্তত শতাধিক আসনে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুন নেতাদের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে আলোচনা উঠেছে। সম্ভাব্য এসব তরুণ প্রার্থীর অনেকে এলাকায় মানুষের নজর কেড়েছেন জানা গেছে। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দিলে নতুন মুখ হিসেবে এই তরুণদের অনেকেই আগামী নির্বাচনে জায়গা করে নিতে পারেন।
তবে এসব তরুণ বা নতুন মুখ যেসব আসনে প্রার্থী হবেন সেসব আসনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে দলটির সাবেক এমপিদের মধ্যে। ইতোমধ্যে সারা দেশের নির্বাচনি এলাকায় তরুণদের অনেকে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনি ইশতেহার ও নির্বাচনি জোট- এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। প্রার্থী মনোনয়নে প্রাধান্য পাবে ত্যাগী, সৎ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতারা। প্রার্থী বাছাইয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা ও জনমত জরিপের ফলাফলকে এবার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া থাকবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়। কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা হলেও নির্বাচনি এলাকায় জনপ্রিয়তা না থাকলে তাকে মনোনয়ন দেবে না বিএনপি।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিএনপিতে অতীতে অনেক নতুন নতুন প্রার্থী এসেছেন; যারা এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন। যাকে মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে দল নিশ্চিত হতে পারবে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘অনেকের ত্যাগ-তিতিক্ষা বেশি হলেও যোগ্য না-ও হতে পারেন। এমন প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দল তাকে অন্যভাবে মূল্যায়ন করবে। তবে নির্বাচনি আসনে কে বেশি জনপ্রিয়, সেটাই দেখা হবে। যাকে দিলে আসন নিরাপদ হবে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
রাজনীতিতে সেই ব্যক্তি তরুণ যতক্ষণ তার কর্মক্ষমতা রয়েছে। বয়স কোনো বিষয় নয়। কর্মক্ষম না হলে সেই তরুণের রাজনীতিতে অবদান রাখা কঠিন। পাশাপাশি ত্যাগ স্বীকার করা নেতা তরুণ হলেও তাকে বিজয়ী করে আনতে পারব কি না সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য তাকে পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তৈরি করা হবে, প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ কোনো আসন কারও জন্য নির্ধারিত নয়। আমি কী পেলাম, আর পেলাম না এটা বড় বিষয় নয়- টিম জেতানোই বড় বিষয়’ যোগ করেন বিএনপির নীতিনির্ধারক এই নেতা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরে একঝাঁক তরুণ নেতা নির্বাচনকে সামনে রেখে নীরবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঢাকার বাহিরে, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, এবং ময়মনসিংহ বিভাগেরও বেশ কিছু মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণের নাম উঠে এসেছে।
রাজশাহী বিভাগের তরুণদের নিয়ে আলোচনা থেমে নেই রাজশাহী বিভাগেও। এ বিভাগে দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং তদবিরের পাশাপাশি গণসংযোগ চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

প্রভাবশালী ও তরুণ মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী নামের মধ্য স্থান পেয়েছেন, ওমান প্রবাসী ও কমিউনিটি নেতা ও ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) নেতা জয়পুরহাট-২ জাতীয় সংসদীয় আসন-৩৫ প্রকৌশলী আমিনুর ইসলাম (সিআইপি)।
এছাড়াও রাজশাহী বিভাগ থেকে, রাজশাহী-১ আসনে বিশিষ্ট শিল্পপতি অ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম তারেক, রাজশাহী-২ আসনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী-৩ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান, রাজশাহী-৪ আসনে বাগমারা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন, রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, মো. ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম মোস্তফা এবং রাজশাহী-৬ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের নাম ছড়িয়ে পড়েছে সম্ভাব্য নতুন প্রার্থী হিসেবে। এই বিভাগের বগুড়া-৫ আসনে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গোলাম সারওয়ার, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রকিবুল করিম খান পাপ্পুর নাম জনগণের মুখে মুখে রয়েছে। পাপ্পুর মনোনয়নও একরকম নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর আরও বলেন, কখনো কখনো কৌশলগত কারণে একটা জেলায় ভালো প্রার্থী দিতে হয়। এর প্রভাব চারিদিকে পড়ে। বিগত সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় চট্টগ্রামের আসনগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যদি আগামীতে তিন জায়গা থেকে দাঁড়ান তাহলে এই তিন আসনের সঙ্গে আরও ১২টি আসন চলে আসবে। কারণ জনগণ ভোট দেওয়ার আগে পাশের আসনের অবস্থান বিবেচনা করেন।
এদিকে, (অ্যাব) নেতা ও ওমান প্রবাসী প্রকৌশলী আমিনুর ইসলাম সিআইপি, বলেন আমরা আশা করবো দল যোগ্যপ্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে।
এই (অ্যাব) নেতা নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে নিজ নির্বাচনী এলাকা কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, আমার রাজনীতির মূলমন্ত্র— সততা, ন্যায়বিচার, দক্ষতা ও জনগণের কল্যাণ। এই চারটি ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আমি আমার প্রিয় এলাকা, অর্থাৎ কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুরকে একটি সৃজনশীল উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আমি বিশ্বাস করি, নেতৃত্ব যদি সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণ মুখী হয়, তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবা সবার দোরগোড়ায়, কৃষি ও যুব উন্নয়ন সহ নারী ও প্রবীণবান্ধব এক সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ অল্প সময়ের মধ্যেই এই জনপদে হবে দৃশ্যমান।
সূত্র- খবরেরকাগজ

