লন্ডন প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গৌরব ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে যুক্তরাজ্যে তুলে ধরার লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার, রমফোর্ডের মেফেয়ার হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’।
উৎসবকে সামনে রেখে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় পূর্ব লন্ডনের নিউ রোডের তারা-তারে রেস্টুরেন্টে এক প্রেস ব্রিফিং ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সুজন বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী রেজা ও মো. মাসুদুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী রেজা ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর প্রেস রিলিজ পাঠ করে শোনান। এতে উৎসবের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়োজন নয়; এটি চট্টগ্রামবাসীর সম্মিলিত ঐতিহ্য, পরিচয় ও গৌরবের উৎসব। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে শিকড়ের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই উৎসবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের জন্যও এ উৎসব একটি কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
চট্টগ্রাম উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্যে কার্যরত বিভিন্ন চট্টগ্রামভিত্তিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির বিভিন্ন অংশকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। পারস্পরিক সহযোগিতা, মতবিনিময় ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও ইতিবাচক কমিউনিটি গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম উৎসবকে আরও বৃহৎ পরিসরে, উন্মুক্ত মাঠে এবং আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী উপাদান যথাযথ মর্যাদায় উৎসবের অংশ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আয়োজক, শিল্পী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবক, সংগঠক কিংবা দর্শনার্থী—যে ভূমিকাতেই থাকুন না কেন, সবার অংশগ্রহণেই এ উদ্যোগ আরও সমৃদ্ধ হবে। তাই যুক্তরাজ্যের সব চট্টগ্রামভিত্তিক সংগঠন, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, তরুণ প্রজন্ম ও সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, আবুল মুনছুর শাহজাহান, আরশাদ মালেক, শওকাত মাহমুদ টিপু, কাউন্সিলর ফিরোজ গনি, ইঞ্জিনিয়ার মো. আলমগীর, সলিসিটর জাগির আলম, মোহাম্মাদ কায়সার, মনির মাহমুদ, সুজন বড়ুয়া, অনুপম দাদা, মোহাম্মদ আলী রেজা, মো. মাসুদুর রহমান, শওকাত ওসমান, রায়হান চৌধুরী টিটু, আনন্দ বড়ুয়া, এম. আলিম উল্লাহ রাহাত, মোরশেদ ইসলাম, মোহাম্মদ আসলাম, গিয়াস উদ্দিন, ওমর বাপ্পী, সোহেল ইসলাম, মোছাম্মৎ সাদিয়া, শেখ সাজ্জাদ হোসেন, সায়েদ এ. এম. সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাকিব উদ্দিন, ওমর গনি, সায়েদ রফিকুল ইসলাম, মো. সাজ্জাদ হোসেন সায়েম, আশিকুর রহমান, তানভীর, নাবিল রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা।
এ সময় গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, সন্দ্বীপ সমিতি ইউকে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন, গ্লোবাল চাটগাঁ সোসাইটি ইউকে, কক্সবাজার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, বকতিয়ার সোসাইটি ইউকে, সীতাকুণ্ড সমিতি, চট্টগ্রাম ক্লাব ইউকে, ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফোরাম, সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন এবং চট্টগ্রাম কমিউনিটি কেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলন শেষে চট্টগ্রাম উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ একটি মর্যাদাপূর্ণ, সর্বজনীন ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হবে।