তিন দেশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ইসলামিক জোট

নিউজ ডেস্ক : মধ্যপাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত মোকাবেলায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে একটি যৌথ “ইসলামিক সেনাবাহিনী” গঠনের অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রভাবশালী নেতা মহসিন রেজাই এই প্রস্তাবের কথা জানান।

রেজাই দাবি করেন, এই ধরনের একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠিত হলে তা অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, “মুসলিম বিশ্বের সম্মিলিত সামরিক শক্তি” আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

তবে, বিশ্লেষকরা এই প্রস্তাবকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সম্ভাব্য বিস্ফোরক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, মধ্যপাচ্যে এমন জোট বাস্তবায়িত হলে জটিল ক্ষমতার সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে এবং বর্তমান সংঘাত আরও ব্যাপক আকার ধারণ করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর সাথে ইরানের তীব্র বৈরিতার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এই প্রস্তাবের পটভূমিতে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ভোরেও ইরান ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হাইফায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার স্থানগুলোতে ভবন ও যানবাহনে আগুন লাগে, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ১৩ জুন ভোরে ইসরায়েল ইরানের তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে পারমাণবিক ও সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবেই ইরান বড় ধরনের শক্তিপ্রদর্শন করে ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় গোটা অঞ্চল এখন যুদ্ধের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *