
মাস্কাট | ৩ জানুয়ারি: আজ সন্ধ্যা এবং আগামীকাল ভোরে ওমানের আকাশে দেখা যাবে কোয়াড্রান্টিড (Quadrantid) উল্কাবৃষ্টি। এটি বছরের অন্যতম সক্রিয় উল্কাবৃষ্টি হিসেবে পরিচিত, যা নতুন বছরের শুরুতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
ওমান অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সোসাইটি জানিয়েছে, কোয়াড্রান্টিড উল্কাবৃষ্টির বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত তীব্র কার্যকলাপ ও স্বল্পস্থায়ী সর্বোচ্চ পর্যায়, যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আদর্শ পরিস্থিতিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, প্রতি বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। তবে এর সর্বোচ্চ সময় হচ্ছে ৩ জানুয়ারির সন্ধ্যা থেকে ৪ জানুয়ারির ভোর পর্যন্ত। পর্যবেক্ষণের জন্য মধ্যরাতের পর অন্ধকার, আলোদূষণমুক্ত স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চাঁদের আলো কিছু দুর্বল উল্কাকে আড়াল করতে পারে।
ওমান অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির মতে, এই উল্কাবৃষ্টি সম্পর্কিত ধূলিকণা আসে ২০০৩ EH1 নামের একটি নিকট-পৃথিবী বস্তু থেকে, যা একটি গ্রহাণু হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হলেও ধারণা করা হয় এটি একটি প্রাচীন ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ। বস্তুটি প্রতি ৫.৫ বছরে সূর্যকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ উপবৃত্তাকার কক্ষপথে একবার আবর্তন করে।
সংস্থার সদস্য আল হিনাই বলেন, কোয়াড্রান্টিড উল্কার কণাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঘন ও শক্ত হওয়ায় এগুলো উজ্জ্বল হয় এবং এর সর্বোচ্চ পর্যায় স্বল্পস্থায়ী হয়। এই উল্কাগুলো সাধারণত দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নীলাভ-সাদা রঙের হয়ে থাকে এবং কখনো কখনো কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ধোঁয়াটে রেখা রেখে যায়।
শনিবার সূর্যের সবচেয়ে কাছে যাবে পৃথিবী
আজ শনিবার পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাবে, যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় পেরিহেলিয়ন বলা হয়। এ সময় পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব হবে প্রায় ১৪৭.১ মিলিয়ন কিলোমিটার।
ওমান অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন মোহাম্মদ আল মাহরুকি জানান, এটি একটি স্বাভাবিক বার্ষিক ঘটনা এবং পৃথিবীর কক্ষপথের সামান্য উপবৃত্তাকার আকৃতির ফল।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে পৃথিবী সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে, যাকে অ্যাফেলিয়ন বলা হয় — তখন দূরত্ব হয় প্রায় ১৫২.১ মিলিয়ন কিলোমিটার। সূর্যের কাছাকাছি বা দূরে যাওয়ার সঙ্গে তাপমাত্রা বা ঋতু পরিবর্তনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ হলো পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষের ২৩.৫ ডিগ্রি হেলান।