
পিবিএন ডেস্ক : ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাস্কাটের ঘোবরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে দুবাইয়ে প্রবাসী যুবক সোহাগ মিয়া (২৫) শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
ওমানে নিহতদের মধ্যে দু’জনের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় এবং অপর দু’জনের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। কক্সবাজার জেলার নিহতরা হলেন উখিয়া উপজেলার প্রদীপ কুমার এবং রামু উপজেলার লোকমান হাকিম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকালে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন গুরুতর আহত হন।
ওমান রয়েল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী কুলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা চারজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাদের মরদেহ কুলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস মাস্কাট জানান, দূতাবাস ঘটনাটি পর থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিহতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
দুবাইয়ে প্রবাসী যুবক সোহাগ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের সাহারপাড় গ্রামের মোখলেছ মিয়ার একমাত্র সন্তান। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নুরুন্নবী মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সোহাগ তিন বছর আগে জীবিকা ও সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য দুবাই পাড়ি জমান। সেখানে তিনি ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করছিলেন। শুক্রবার তিনি মাইক্রোবাসে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। মরদেহ উদ্ধার করে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের পরিবার জানায়, বিয়ের পরপরই সোহাগ প্রবাসে গিয়েছিলেন। আকস্মিক মৃত্যুর কারণে তার স্ত্রী, ভাই-বোনসহ পরিবার দিশেহারা। তারা দ্রুত সোহাগের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুই দেশের সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।













