
নিউজ ডেস্ক : ওমানের সালালাহ শহরের পাহাড়ঘেরা পথে ঘুরে ফেরার কথা ছিল একটি পরিবারের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের। কিন্তু হঠাৎ সামনে চলে আসা একটি উট মুহূর্তেই বদলে দেয় সবকিছু! এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারান। আহত হয়েছেন পরিবারের আরও তিন সদস্য।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে সালালাহর তাম্বেত এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে উটের সংঘর্ষে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান গাড়িতে থাকা মা, তাঁর একমাত্র ছেলে ও মেয়ের জামাই।
নিহতরা হলেন ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের ওমানপ্রবাসী মো. শফিউর আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, তাঁদের একমাত্র ছেলে মুহাম্মদ সাকিবুল হাসান (সবুজ) এবং বিলকিস আক্তারের মেয়ের জামাই হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুহাম্মদ দিদার। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সাকিব।
একই গাড়িতে থাকা সাকিবের বোন, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের ছোট কন্যা গুরুতর আহত হন। তাঁদের সালালাহর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনেরা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
ওমানে থাকা নিহত সাকিবের চাচা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, কয়েক দিন আগে মাস্কাট থেকে তাঁরা সালালাহ যান হজরত আইয়ুব (আ.)–এর মাজার জিয়ারত ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে। পাহাড় আর সমুদ্রঘেরা সালালাহতে পরিবারের সবাই মিলে সময় কাটাচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে ঘোরাঘরি শেষে ফেরার পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমার ভাবি, ভাতিজা আর মেয়ের জামাই-একসঙ্গে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। এটি মানতে পারছি না।
দূর প্রবাসে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই ফটিকছড়ির ছোট ছিলোনিয়া গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত সাকিব ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। স্বপ্ন ছিল প্রবাসে স্থায়ী হয়ে পরিবারকে স্বচ্ছল করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।
সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহিদুল আজম বলেন, একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

