বিএনপির ইশতেহারে প্রবাসীদের কল্যাণ নিয়ে মহাপরিকল্পনা

পিবিএন ডেস্ক :
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ খাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করতে একটি সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সফট স্কিলসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাহীন ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠিয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শ্রম বাজার পুনর্গঠন করা হবে। আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শ্রমিক রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করা হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 ভাষা শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ

এই পরিকল্পনার আওতায় আরবি, ইংরেজি, জাপানিজ, জার্মান ও কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণের জন্য ১ হাজার প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০০ জন নেটিভ স্পিকার সরাসরি স্থানীয় প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপন করে অনলাইন ও হাইব্রিড পদ্ধতিতে দেশব্যাপী ভাষা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে।

ডিজিটাল স্কিল ডাটাবেজ ও স্মার্ট আইডি

বিদেশি নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী ডিজিটাল স্কিল ডাটাবেজ চালু করা হবে। প্রতিটি কর্মীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্মার্ট স্কিল ব্যাজ বা ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি দক্ষ কর্মী বাছাই করতে পারেন।

প্রবাসীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সাপোর্ট

ওয়েলফেয়ার বোর্ডের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ান-স্টপ প্রবাসী সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের সমস্যা, অভিযোগ ও সেবার অগ্রগতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে। দূতাবাস, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে অভিযোগ নিষ্পত্তি দ্রুততর করা হবে।

লিগাল সুরক্ষা ও পাচার প্রতিরোধ

বিদেশের প্রধান দূতাবাসগুলোতে বাংলাদেশ সাপোর্ট সেন্টার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে লিগাল ডিভিশন ও লিগাল উইং চালু করা হবে। মানব পাচার চক্র দমনে কঠোর নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসন ও ‘প্রবাসী সিটি’

বিদেশ থেকে ফেরত আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসন, পুনঃপ্রশিক্ষণ ও পুনঃনিয়োগের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য আধুনিক আবাসন সুবিধাসম্পন্ন ‘প্রবাসী সিটি’ বা ‘ওয়েজ আর্নার্স গ্রীন সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মরদেহ প্রত্যাবর্তন সহজীকরণ

প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দ্রুত দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও মানবিক করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবায়ন হলে এই মহাপরিকল্পনা বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং প্রবাসীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *