
পিবিএন ডেস্ক : আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিজ এলাকার মসজিদের ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছেন সমাজসেবী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাতা এবং ওমান প্রবাসী উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহ আলী। এ সময় তাঁর পক্ষ থেকে মোট ১৪ জন ইমাম, খতিব ও মাদ্রাসা শিক্ষককে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়।

নিজের এই সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহ আলী বলেন, ভবিষ্যতে তিনি কোনো রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ারও কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। মহান আল্লাহ তাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় গৌরব।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় তিনি কোনো পদপ্রত্যাশী নন। “আমি জগন্নাথকান্দি গ্রামের সন্তান—এটাই আমার একমাত্র পরিচয়। কোনো পদ বা স্বার্থের আশায় নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই মসজিদ-মাদ্রাসার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি,” বলেন তিনি।
এ সময় তিনি তাঁর মরহুম পিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বয়োবৃদ্ধ মায়ের সুস্থতা ও দীর্ঘ নেক হায়াতের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের জগন্নাথকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহ আলী। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ওমানের সালালাহ শহরে কনস্ট্রাকশন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। পাশাপাশি তিনি ওমান সরকারের অনুমোদিত বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব, সালালাহ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সততা ও আদর্শের সঙ্গে তিনি তাঁর ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যেখানে বহু বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

প্রবাসে বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে কমার্শিয়াল ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন (সিআইপি) ক্যাটাগরিতে সম্মাননা ও পদকে ভূষিত করে। এরপর থেকেই তিনি মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেন।
স্থানীয়দের জানান-, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে ও গোপনে মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন।
প্রতিবছর শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, পবিত্র রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ এবং ঈদে দরিদ্র পরিবারের ঘরে ঘরে ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নিয়ে থাকেন এই তরুণ উদ্যোক্তা ও সমাজহিতৈষী। এছাড়াও তিনি অসহায় মানুষের জন্য জমি কিনে গৃহনির্মাণ করে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, দরিদ্র দিনমজুরদের অর্থ সহায়তা দিয়ে ছোট ব্যবসা শুরু করতে সহযোগিতা করা এবং মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদানসহ নানা জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলী শুধু দেশের মাটিতেই নয়, প্রবাসের মাটিতেও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। ওমানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বিশেষ করে ওমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নানা সমস্যায় সহযোগিতা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রকৌশলী শাহ আলী। এছাড়াও ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তায়ও তিনি আন্তরিকভাবে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
নিজের পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি খুবই নগণ্য একজন মানুষ। সমাজে আমার চেয়েও অনেক বিত্তশালী মানুষ আছেন। তারাও যদি সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আমরা সবাই সমাজের কাছে দায়বদ্ধ।”
সমাজের মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে একটি সামাজিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর দান-সহযোগিতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।














