১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি | ২৮ আগস্ট ২০২৬
মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য—দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন)”
ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস হলো সেই আলো, যার মাধ্যমে একজন মুমিন তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখতে পান। এটি এমন এক শক্তি, যার ওপর মুমিনের হৃদয় ভরসা করে এবং জীবনের পথে চলার পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর শান্ত ও আশ্বস্ত থাকা, তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রাখাই ইয়াকিনের অন্যতম পরিচয়।
আল্লাহ তায়ালা দৃঢ় বিশ্বাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন এবং তাঁদের তাঁর শ্রেষ্ঠ মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পবিত্র সূরা আল-বাকারা’র শুরুতেই আল্লাহ বলেন “যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।”
ইয়াকিন হলো হৃদয়ের প্রশান্তি এবং অবিচলতার ভিত্তি। এর মাধ্যমে মানুষের আত্মা দৃঢ় থাকে, বিপদ-আপদ সহ্য করা সহজ হয় এবং সংকল্প আরও শক্তিশালী হয়। এ কারণেই নবী-রাসুলদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দৃঢ় বিশ্বাস। আল্লাহ বলেন—তারাই তারা, যাদের আল্লাহ হেদায়াত করেছেন। অতএব, তুমি তাদের পথনির্দেশ অনুসরণ করো।”
দৃঢ় বিশ্বাসের অন্যতম ফল হলো **বিপদে সাহস, সংকটে অবিচলতা এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ও স্থিরতা। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলাকে নিজের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাকে ভয় কীভাবে পরাজিত করতে পারে? আর তার আতঙ্কিত হওয়ারই বা কারণ কী?
মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ইয়াকিন অর্জনের পথ খুঁজতে অন্ধকারে ছেড়ে দেননি। বরং তিনি এর দরজাগুলো খুলে দিয়েছেন, কীভাবে তা অর্জন করা যায় তার পথ দেখিয়েছেন এবং সেই প্রতিটি উপায়ের মধ্যে হৃদয়ের জন্য আলো ও আত্মার জন্য দৃঢ়তা রেখেছেন।
তাই দৃঢ় বিশ্বাস বা ইয়াকিন অর্জনের জন্য নিজের মূল্যবান সময় ও সর্বোত্তম প্রচেষ্টা ব্যয় করা উচিত। কারণ এই ইয়াকিনের মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও মুক্তির পথ। যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে এর জন্য চেষ্টা করবে, আল্লাহর রহমতে সে সত্যিকার অর্থে হেদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।