প্রবাস বাংলা ডেস্ক: অধ্যবসায় মানুষকে ধমিয়ে রাখতে পারে না, ওমানে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) ইগনুর ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তারই প্রমান দিয়েছে বাংলাদেশি দম্পতি।
২০১২ সালে অনার্স শেষ না করেই জীবনের তাগিদে ওমানে পাড়ি জমান আফতাব উদ্দিন।
শুরুতে চাকরি করলেও পরে গড়ে তুলেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
হয়েছেন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে সিআইপি’ও।
ব্যবসার পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) Oman Branch থেকে ব্যাচেলর ও এমবিএ (মার্কেটিং) সম্পন্ন করেছেন এবং এমবিএ-তে প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। একই সাথে তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারও ব্যাচেলর অব কমার্স (B.Com) সম্পন্ন করে প্রথম বিভাগ অর্জন করেন।

(IGNOU) Oman Branch সহ বিভিন্ন দেশের ২৫ ব্রাঞ্চের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে
বর্ণিল আয়োজন সমবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU)।
ওমানের রাজধানী মাস্কাট একটি হলরুমে আয়োজিত সমবতন অনুষ্ঠানে আফতাব উদ্দিন সানজিদা দম্পতিসহ, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭০ জন গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গ্র্যাজুয়েট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সমাবর্তন ভারস্যুয়াল যুক্ত ছিলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ম্যাগনলাল ঠাক্কর কো. এলএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী সুরিন্দর জোশি।
উপস্থিত ছিলেন IGNOU ওমান সেন্টারের ডিন ড. আলী।
উল্লেখ্য, ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) বিশ্বব্যাপী ওপেন ইউনিভার্সিটির মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে এবং এটি শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান এবছর এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২.৫ লাখ শিক্ষার্থী তাদের ডিগ্রি গ্রহণ করেছেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন IGNOU শাখা থেকে সংগৃহীত।
ওমানে, IGNOU-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডীন প্রফেসর ড. আলী উপস্থিত ছিলেন এবং এটি আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী তাদের সাফল্য অর্জন করেছেন।

এবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষত আফতাব উদ্দিন এবং তার স্ত্রী সানজিদা আক্তারের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে পরিচিত। সানজিদা আক্তার প্রথম বিভাগে B.Com ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং আফতাব উদ্দিন IGNOU থেকে ব্যাচেলর অব কমার্স (B.Com) এবং এমবিএ (মার্কেটিং) ডিগ্রি প্রথম বিভাগে অর্জন করেছেন।
এটি ছিল আফতাব উদ্দিনের দীর্ঘ সংগ্রামের ফল, যেখানে তিনি বাংলাদেশের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তম ফলাফল অর্জন করেন, ফেনী সরকারি কলেজে একাউন্টিং বিভাগে ভর্তি হন এবং পরবর্তীতে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান, কিন্তু আর্থিক অসুবিধার কারণে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূর্ণ হয় না। কঠিন পরিস্থিতিতে, তিনি ওমানে চলে যান এবং সেখানে চাকরি ও ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ, তিনি AIT Group of Companies-এর চেয়ারম্যান এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এছাড়া তিনি দুইবার বাংলাদেশ থেকে NRB CIP সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, কোনো প্রতিবন্ধকতাই সফলতার পথে বাধা হতে পারে না, যদি আমরা সাহস ও দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখি। আফতাব উদ্দিনের স্বপ্ন এখন PhD ডিগ্রি অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছে, যা তার পরবর্তী মাইলস্টোন হতে চলেছে।