জাতীয় নির্বাচন আগে দিতে হবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রবাস বাংলা ডেস্ক: ন্যূনতম সংস্কার শেষে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলেছি জাতীয় নির্বাচন আগে; তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

শনিবার, ১(৫ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই বৈঠক হয়। কমিশনের বৈঠক শেষে বের হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা আশা করব খুব দ্রুত এই সংস্কারের বিষয়ে ন্যূনতম যে ঐকমত্য তৈরি হবে। আমাদের প্রত্যাশা- সেটার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় নির্বাচন অতি দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করলেন। এই বৈঠকে তিনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কথা বলেছেন। দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, সংস্কারের যে প্রতিবেদনগুলো বিভিন্ন কমিশন জমা দিয়েছে, সেগুলোর ওপর আলাপ-আলোচনা হবে। দলগুলো এ নিয়ে কমিশনগুলোর সঙ্গে কথা বলবে। একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। সেটাই মূল কথা। আজ প্রাথমিক আলোচনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন কথা বলেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম বৈঠকটি ছিল মূলত পরিচিতিমূলক, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও গঠনমূলক আলোচনা হয়নি।

এদিকে, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে নির্বাচনের ট্রেনটা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর।

একই সাথে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় জাতীয় নাগরিক কমিটিও।

তবে এতে গোর বিরোধীতা করেছে বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে প্রবেশের আগ মুহূর্তে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ অন্যান্যরা।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা দেখছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো কোনো ফাংশনে আসছে না। এছাড়া এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুনর্গঠন করতে হবে। এই উপদেষ্টা পরিষদ দেশের স্থিতিশীলতা আনয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছে না। নির্বাচন ডিসেম্বর বা যে সময়েই হোক আমরা সময় দেবো।’

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নিয়েছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

গত বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। এ কমিশনের সদস্য হিসেবে ৬টি কমিশনের প্রধানরা রয়েছেন। কমিশনে সভাপতি হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সহসভাপতি আছেন সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *