
প্রবাস বাংলা ডেস্ক: মাস্কাট: রয়্যাল ডিক্রি নম্বর ৫৬/২০২৫ অনুযায়ী ওমানে ব্যক্তিগত আয়কর আইন জারি করা হয়েছে, যা মোট ৭৬টি ধারা ও ১৬টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এ আইন অনুসারে, নির্ধারিত কিছু আয়ের উৎস থেকে এক বছরে আয়ে ৪২ হাজার ওমানি রিয়াল বেশি আয় করলে ৫% হারে আয়কর দিতে হবে।
এই আইন ২০২৮ সালের শুরু থেকে কার্যকর হবে।
ওমানের কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ আইন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় উপযোগী, এবং কর ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এটি ওমান ভিশন ২০৪০ এর লক্ষ্য পূরণেও সহায়ক হবে, যার অন্যতম লক্ষ্য হলো তেল নির্ভরতামুক্ত রাজস্ব বৈচিত্র্যকরণ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ১৫% এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ১৮% রাজস্ব কর থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে আয় পুনর্বন্টন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সামাজিক সুরক্ষা তহবিলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
কর কর্তৃপক্ষ জানায়, আইন কার্যকরের আগে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে আয় ও আয়ের উৎস মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ওমানের প্রায় ৯৯% নাগরিক এই করের আওতায় পড়বেন না, কারণ কর আরোপযোগ্য বার্ষিক আয়ের সীমা রাখা হয়েছে তুলনামূলকভাবে অনেক উঁচু – ৪২,০০০ ওমানি রিয়াল।
এই আইনে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জাকাত, দান, উত্তরাধিকার, ও প্রাথমিক আবাসনের মতো সামাজিক খাতে কর ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে।
আয়কর প্রকল্পের পরিচালক, করিমা মুবারক আল সাঈদি বলেন, কর প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আইনটির কার্যনির্বাহী বিধিমালা সরকারি গেজেটে প্রকাশের এক বছরের মধ্যে জারি করা হবে।
তিনি আরও জানান, কর কর্তৃপক্ষ একটি ইলেকট্রনিক সিস্টেম চালু করেছে, যা স্বতঃস্ফূর্ত কর প্রদানে সহায়তা করবে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে করদাতাদের আয় যাচাই নিশ্চিত করবে। কর প্রদানের জন্য দিকনির্দেশনা ও গাইডলাইন প্রকাশের সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

