পিবিএন ডেস্ক : লিবিয়ার ত্রিপলী থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা(আইওএম)-এর সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
প্রত্যাবাসিতরা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের UZ222 ফ্লাইটে করে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারা ত্রিপলীসহ আশেপাশের বিভিন্ন শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবেতর পরিস্থিতিতে অবস্থান করছিলেন এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসেন। এদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
প্রত্যাবাসনের আগে দূতাবাস প্রাঙ্গণে অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Major General Md. Habib Ullah। এসময় তিনি তাদের বিদায় জানান এবং প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং প্রদান করেন। উপস্থিত ছিলেন কাউন্সেলর (শ্রম) প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া।
ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তিনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এর আন্তরিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি বহির্গমন ভিসা সহজীকরণ এবং প্রত্যাবাসন ফ্লাইট নিশ্চিত করতে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের দেশে ফিরে পুনর্বাসন, পরিবারে ফিরে যাওয়া এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করেন।
এছাড়া, দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের দেশে ফিরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও দুর্ভোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য প্রত্যাবাসিতদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া নিয়মিতভাবে ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৬ সালে আইওএম-এর সহায়তায় এখন পর্যন্ত চারটি ফ্লাইটে মোট ৬৮৯ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।