
মানামা, বাহরাইন: গালফ সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সুপ্রিম কাউন্সিলের ৪৬তম অধিবেশন বাহরাইনের আল সাখিরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রকাশ করেন ঐতিহাসিক “সাখির ঘোষণা, যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচটি মূল নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নেতারা বলেন, জিসিসি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য—অভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর ঐক্য—আরও দৃঢ় করা হবে। রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করে একীভূত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়া হবে।
তারা যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সমন্বিত কূটনৈতিক অবস্থান এবং টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্জিত অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ঘোষণায় বলা হয়—জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব অখণ্ড, এবং কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা পুরো পরিষদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে নেতারা শারম আল শেখ শান্তি সম্মেলনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন এবং ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি নতুন করে সমর্থন জানান।
জিসিসি সাধারণ বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়ন সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়ে নেতারা বাণিজ্য, পর্যটন, অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি, যোগাযোগ, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল পেমেন্ট, ই–কমার্স এবং ক্লাউড সেবার সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি যুব ও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেন। টেকসই উন্নয়ন ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিষ্কার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন এবং সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) ও নেট-জিরো লক্ষ্য অর্জনে জিসিসি দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, ঘৃণাবার্তা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা আসে। বাহরাইনে অবস্থিত সম্মিলিত নৌবাহিনীর কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়ে নেতারা জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক পথ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তারা মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু ও গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে আরব গ্রুপের প্রতিনিধিত্বে বাহরাইনের প্রতি জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর পূর্ণ সমর্থন জানান নেতারা।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে জিসিসি–ইতালি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়।
সম্মেলনের শেষে জিসিসি নেতারা ভ্রাতৃসুলভ সংহতি ও কৌশলগত সমন্বয় বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, সাখির ঘোষণা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধির ভিত্তি স্থাপন করবে।
–

