
পোস্টাল ভোট দেওয়ার শেষ সময় ২৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রবাসীদের শেষ করার আহ্বান ইসির স্বল্প সময় নিয়ে উদ্বেগ, দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি ওমান প্রবাসীদের
ঢাকা/মাস্কাট: পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানকারী প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ব্যালট পূরণ করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানায়, প্রবাসী ভোটারদের প্রেরিত পোস্টাল ব্যালট যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট পোস্ট করা না হলে তা যথাসময়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন।
এদিকে ইসির এই ঘোষণার পর ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনকারী অনেক প্রবাসী জানান, নির্বাচন কমিশন মোটে চার দিনের সময় দিলেও এর মধ্যে দুই দিন ওমানের ডাকঘর বন্ধ থাকবে। ফলে কার্যত ভোটারদের হাতে থাকছে মাত্র দুই কার্যদিবস।
ওমান বিডি পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনকারী প্রবাসীরা বলেন, স্বল্প এই সময়ের মধ্যে সবাই পোস্ট অফিসে গিয়ে ব্যালট জমা দিতে পারবেন না। বিশেষ করে যারা দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত কিংবা যাদের ছুটির সুযোগ সীমিত, তাদের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।
একাধিক প্রবাসী জানান, ওমানে কর্মরত বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ নির্মাণ, পরিবহন ও সেবাখাতে নিয়োজিত। এসব খাতে কর্মরতদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সীমিত ছুটির কারণে পোস্ট অফিসে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। এছাড়া কিছু এলাকায় পোস্ট অফিসের সংখ্যা কম এবং যাতায়াত ব্যয় ও সময়ও বেশি।
এই পরিস্থিতিতে ওমানসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী ভোটাররা কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়সীমা বাড়ানো হলে অধিকসংখ্যক প্রবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন এবং পোস্টাল ব্যালট যথাসময়ে পৌঁছানোর নিশ্চয়তাও বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও তা কার্যকর করতে হলে বাস্তবসম্মত সময়সূচি ও স্থানীয় ডাক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

